হবিগঞ্জে হামলা ও মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার পর পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সিলেটে গিয়ে হামলায় পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী বহর। সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিলেটে ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার বিবরণ, অভিযোগ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল দিকসমূহ:
- এনসিপির অভিযোগ ও সারজিস আলমের বক্তব্য: এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁদের ফেসবুক পেজে ভাঙচুর হওয়া গাড়ির ভিডিও প্রকাশ করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, চাপাতি, রড ও ইট নিয়ে যুবদল-ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাঁদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়, এতে একটি গাড়ির তিনটি গ্লাস ভেঙে যায়।
- ঘটনার বিবরণ: সিলেট প্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ঘুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল লোক বহর লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ে ও গাড়ি ভাঙচুর করে।
- নিরাপত্তা ও প্রশাসন: কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনায় সিলেটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ৫টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইটপাটকেলে নেতাদের গাড়ির গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এনসিপি নেতারা নিরাপদে নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এনসিপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে যুবদল কিংবা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।


















