আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবনস্বত্বে তা ভোগ-দখল ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার সুযোগ তৈরি করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ (Transfer of Property Act) সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত আইনি পরিবর্তন ও জীবনস্বত্বের মূল পয়েন্টসমূহ:
- বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতা: বর্তমানে মুসলিম আইনে ‘হেবা’ কিংবা সাধারণ ‘দানপত্র’ (Gift) দলিলের মাধ্যমে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে বাবা-মা তাৎক্ষণিকভাবে এর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে সন্তানরা পিতা-মাতাকে দেখভাল না করলে কিংবা তা তাড়িয়ে দিলে বাবা-মায়েরা মারাত্মক অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
- জীবনস্বত্ব (Usufruct Right) যুক্তকরণ: ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে। এর ফলে সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করলেও বাবা-মা নিজেদের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।
- এককভাবে বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা: বাবা-মায়ের জীবিত থাকা অবস্থায় দুই পক্ষের (বাবা-মা ও সন্তান) যৌথ সম্মতি ছাড়া কোনো পক্ষই একক সিদ্ধান্তে সেই সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
- জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ: যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে বাবার চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রয়োজন কিন্তু সন্তান সম্পত্তি বিক্রিতে অসম্মতি জানাচ্ছে, তবে সেই ক্ষেত্রে জেলা জজের কাছে আবেদন করার ক্ষমতা দেওয়া থাকবে। জেলা জজ বিষয়টি বিবেচনা করে সম্পত্তি বিক্রির মঞ্জুরি দিতে পারবেন।
- মামলা কমার সম্ভাবনা: এই সংশোধনের মাধ্যমে আদালতে পারিবারিক বণ্টন ও সম্পত্তি সংক্রান্ত অসংখ্য দেওয়ানি বা সিভিল মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


















