শরীয়তপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত জনপদে ডিজেলের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্য আহরণ। গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের অভাবে নদীপাড়ের হাজার হাজার জেলের ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে নড়িয়া ও গোসাইরহাট উপজেলার জেলেপাড়ায় এখন হাহাকার বিরাজ করছে।
এই সংকটের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- কর্মহীন হাজারো জেলে: জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, শরীয়তপুরের ৭১ কিলোমিটার নদীপথে প্রায় ৩৩ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে জেলায় প্রায় ১২ হাজার ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে, যার বেশিরভাগই জ্বালানি সংকটে ঘাটে বাধা। ৬০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ জেলে সিরাজুল ইসলামের মতে, চার যুগের মাছ ধরার জীবনে তিনি এমন পরিস্থিতির মুখে আর কখনো পড়েননি।
- অতিরিক্ত দামের বোঝা: বাজারে ডিজেল না পাওয়ায় অনেক জেলে বাধ্য হয়ে লিটারপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেশি দিয়ে তেল কিনছেন। গোসাইরহাট থেকে আসা জেলে আবু সুফিয়ান জানান, সুরেশ্বর বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে মাছ ধরে তেলের খরচ তোলাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
- সরবরাহে ঘাটতি: স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, চাঁদপুরের মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো থেকে চাহিদানুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সুরেশ্বর বাজারের বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিদিন ৩-৪ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকলেও তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না।
- মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য: জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব স্বীকার করেছেন যে, ঈদের পর থেকেই এই সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জেলায় প্রায় ৩৫-৪০ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের বিশাল অবদান থাকলেও জ্বালানির এই অনিশ্চয়তা জেলেদের ঋণগ্রস্ত করে তুলছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



















