মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান উত্তেজনা একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা উইলিয়াম এফ ওয়েচসলারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওয়েচসলার মনে করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সহজে নতি স্বীকার করবেন না, অন্যদিকে ট্রাম্পও কোনো ‘দুর্বল চুক্তি’ মেনে নেবেন না। এই অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি পথ বেছে নিতে পারে: আইআরজিসি-কে লক্ষ্য করে সীমিত প্রতীকী হামলা, বিস্তৃত সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা অথবা সরাসরি শাসনকাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেতৃত্ব অপসারণ।
বর্তমানে ওয়াশিংটন সীমিত বলপ্রয়োগের দিকে ঝুঁকলেও এখানে বড় ধরনের ঝুঁকির অবকাশ রয়েছে। যদি মার্কিন হামলায় ইরান প্রতীকী পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ভুলবশত কোনো মার্কিন প্রাণহানি ঘটায়, তবে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি মনে করেন যে ওয়াশিংটন যথেষ্ট কঠোর হচ্ছে না, তবে ইসরায়েল একতরফাভাবে আগাম হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা এই সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এখন সরাসরি মার্কিন ও ইসরায়েলি নিশানায় রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সামরিক পদক্ষেপের বাইরেও ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এই সংঘাতের একটি বড় নিয়ামক হতে পারে। মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরানি জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি সরকার এই বিক্ষোভ দমনে কঠোর গণহত্যা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় আকারের সামরিক অভিযানে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে ইরানের বর্তমান শাসনের পতন ঘটলে দেশটিতে সামরিক শাসন, গৃহযুদ্ধ অথবা রাজতন্ত্র ফেরার মতো চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সংক্ষেপে, প্রথম দফার হামলা এবং তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করে দেবে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি নাকি দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসের দিকে এগোবে।
সোর্স
আটলান্টিক কাউন্সিল



















