গহিরা গ্রাম ও তিন সংসদ সদস্যের বিজয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রাম। এই একটি গ্রাম থেকেই পৃথক তিনটি সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন প্রার্থী। তাঁরা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছেন। নির্বাচিতরা হলেন:
১. গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬, রাউজান): বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে নিজ জন্মস্থান রাউজান থেকে বিজয়ী হয়েছেন। ২. হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭, রাঙ্গুনিয়া): ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়ে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সন্তান। ৩. সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০, ডবলমুরিং-পাহাড়তলী): বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র সাঈদ ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে নগরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গহিরা গ্রাম আগে থেকেই চট্টগ্রামের রাজনীতির এক উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত। এই গ্রামে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ি থেকে এবার চাচা (গিয়াস কাদের) ও ভাতিজা (হুম্মাম কাদের) নির্বাচিত হয়েছেন। সাঈদ আল নোমানের বাড়িও একই এলাকায়। গ্রামটি অতীতে ফজলুল কাদের চৌধুরী (পাকিস্তানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি), এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী (সাবেক মেয়র) এবং আবদুল্লাহ আল হারুনের মতো প্রভাবশালী নেতাদের জন্মস্থান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।
জনমনে খুশির আমেজ ও প্রত্যাশা এক গ্রাম থেকে তিনজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় গহিরাসহ পুরো রাউজান এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার পাশাপাশি তাঁদের পৈতৃক গ্রাম গহিরার শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। গহিরা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই বিজয়কে এলাকার জন্য এক বড় অহংকার হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিএনপি নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের এই নেতৃত্ব চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















