বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসের ৩১ তারিখে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সরকারের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি: রমজান পরবর্তী সময় এবং দেশে চলমান সেচ মৌসুমের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপের বোঝা না চাপানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা কৃষি খাতের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- মজুত পরিস্থিতি: জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল মাসে আরও দেড় লাখ মেট্রিক টন আমদানির প্রক্রিয়া সচল আছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থির করার প্রয়োজন মনে করছে না সরকার।
- জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ: দাম বাড়ানোর পরিবর্তে সরকার এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাসের মতো বিষয়গুলো মন্ত্রিসভার আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
- বিশ্ববাজার পর্যবেক্ষণ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। এই অস্থিতিশীলতা কতদিন স্থায়ী হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে পরবর্তী মাসে পুনরায় দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।



















