গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের চতুর্থ সপ্তাহে এসে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রণকৌশল এখন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একদিকে তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আগেভাগে আঁচ করতে না পারায় মার্কিন প্রশাসন এখন এক কঠিন গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। বর্তমানে ট্রাম্পের সামনে চারটি প্রধান বিকল্প খোলা থাকলেও তার প্রতিটিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ:
১. ক্ষীণ আলোচনার আশা: কূটনীতিকরা যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করলেও ইরান দুবার আক্রান্ত হওয়ায় তারা এখন প্রচণ্ড সন্দিহান। এছাড়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির নীরবতা এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান আলোচনার পথকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে।
২. বিজয় ঘোষণা করে প্রস্থান: ট্রাম্প চাইলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করে যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, যা আসন্ন নির্বাচনে তেলের দাম কমাতে সাহায্য করবে। তবে এর বড় ঝুঁকি হলো, ইরান যেকোনো সময় পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক চরম পরাজয়।
৩. স্থিতাবস্থা বজায় রাখা: কট্টরপন্থিরা চান আরও কয়েক সপ্তাহ বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে পঙ্গু করতে। কিন্তু এতেও কোনো নিশ্চয়তা নেই যে ইরান জাহাজ চলাচল সচল হতে দেবে। উল্টো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি নিঃশেষ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
৪. যুদ্ধের ভয়াবহ বিস্তার: ট্রাম্প যদি হুমকি অনুযায়ী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা তেলসমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপে হামলা চালান, তবে ইরানও পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি শোধনাগার বা গ্যাস কেন্দ্রে আঘাত হানবে। এরই মধ্যে কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টে হামলায় বিশ্বজুড়ে গ্যাস সরবরাহের ৩ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
পরিশেষে, ওয়াশিংটন এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যেখান থেকে বের হওয়ার প্রতিটি রাস্তাই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করলেও এটি শেষ করার কোনো সহজ গ্যারান্টি তার হাতে নেই।



















