দেশের এলপি গ্যাস বাজারের ৯৮ শতাংশই বর্তমানে বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে বিপিসির সরবরাহ বাড়ানোর জন্য খুলনা ও চট্টগ্রামে দুটি বড় এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর ফাইল মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। চার বছর আগে খুলনায় বছরে এক লাখ মেট্রিক টন সক্ষমতার একটি প্ল্যান্টের জন্য জমি প্রস্তুত করা হলেও এর ফিজিবিলিটি স্টাডির ফাইলটি গত তিন মাস ধরে মন্ত্রণালয়ে পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের কাট্টলিতে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন সক্ষমতার আরও একটি বিশাল প্রকল্পের ফাইলও ধীরগতিতে এগুচ্ছে। বর্তমানে সরকারিভাবে এলপিজির চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ সরবরাহ করা হয়, ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
বেসরকারি খাতের এই একচেটিয়া আধিপত্যের সুযোগ নিয়ে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সরকারিভাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারে তা ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণভাবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা থাকলেও সক্রিয় ২৮টি বেসরকারি কোম্পানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না গেলে এই জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হবে। জনস্বার্থে দ্রুত মজুতদারদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আটকে থাকা প্রকল্পগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ভোক্তারা।


















