খ্রিস্টীয় বর্ষবরণের রাতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানোর আড়ালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা থাকতে পারে। এ কারণে রাজধানীর কয়েকটি বিহারি ক্যাম্প ও বস্তি এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পসহ পল্লবীর ৩৯টি বিহারি ক্যাম্প ও ১০টি বস্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র মজুদের গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগ প্রতিদিন ব্লক রেইড চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তা না হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্ষবরণ উপলক্ষে সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকাজুড়ে প্রায় ২৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। প্রতি ফাঁড়ি এলাকায় দুটি করে পেট্রোল পার্টি, বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কারাগারের বাইরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ককটেল নিক্ষেপ, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, খুন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়েছে। পুলিশের লুণ্ঠিত এক হাজার ৩৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভোটের আগে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধী তালিকা হালনাগাদ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, মিরপুর-১১ নম্বর বিহারি ক্যাম্প এলাকা বর্তমানে অপরাধপ্রবণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। গত এক বছরে সেখানে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। পতিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী ক্যাম্প ও বস্তিতে আত্মগোপনে রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে ব্লক রেইডকে জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ।


















