প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশ্বাসের পর দেশের অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সরবরাহ আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহের তথ্য নিয়মিত নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গাজীপুর, মাওনা, ভালুকা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ ১২ থেকে ১৫ পিএসআই পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। এতে শিল্পকারখানাগুলোর গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট গ্যাস সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গতকাল রাত পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং সার্বিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে ভালো হচ্ছে।
তিনি জানান, গাজীপুর, মাওনা, ভালুকা ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা অনেকটাই সমাধান হয়েছে। বর্তমানে এসব এলাকায় আগের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো।
তবে কিছু এলাকায় এখনো গ্যাসের স্বল্পতা ও চাপের ওঠানামা রয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ, ধামরাই ও সাভারের কয়েকটি এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা ছিল। এসব এলাকায় পরিস্থিতি উন্নয়নে সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। কিছু এলাকায় ১২ থেকে ১৫ পিএসআই পর্যন্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আশুলিয়া, কাসিমপুর, কালিয়াকৈর ও ধামরাইয়ের কয়েকটি এলাকায় এখনো গ্যাসের চাপ কিছুটা কম। তবে সার্বিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি জানান, আগের তুলনায় পরিস্থিতি ভালো হলেও কোথাও কোথাও টানা দুই ঘণ্টা স্বাভাবিক চাপ থাকার পর আবার চাপ কিছুটা কমে যাচ্ছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানাতেও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে মাঝেমধ্যে চাপের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
পারভেজ বলেন, কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে আজ বিকেল ৪টায় ২৬১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ছিল। তবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকটের পর দেশের অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ বাড়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।


















