রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত ‘বিজয় ফিস্ট’-এর খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের এবং পরিবেশনের পূর্বে তা দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এতে পেটের গ্যাস, ব্যথা, বমি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, বাজেট থাকা সত্ত্বেও খাবারের মান বজায় রাখা হয়নি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে খরচ কমিয়ে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর থেকেই পেটে গ্যাস, ব্যথা ও অস্বস্তি শুরু হয়। আশপাশের অনেক বন্ধুরাও একই ধরনের উপসর্গে ভুগেছে।”
জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী রবিউর রহমান বলেন, “যে খাবারের জন্য ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে, তার মান এতই খারাপ ছিল যে ক্যান্টিনের সাধারণ খাবারও এর চেয়ে ভালো।”
শামসুজ্জোহা হলের শিক্ষার্থী আরহাদ আহমেদ বলেন, “খাবারের বাজেট ছিল ১৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে ১০০ থেকে ১১০ টাকার বেশি খরচ করা হয়নি। বাকি টাকা কোথায় গেল, সেটাই বড় প্রশ্ন।”
প্রশাসনের বক্তব্য
প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা কেন অসুস্থ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে হল প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বারবার একই ধরনের অব্যবস্থা দেখা গেলেও দোষীদের শাস্তি হয় না, ফলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে।



















