ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ও প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। সর্বশেষ জরিপে উভয় জোটই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান ১১’ এবং টেলিভিশন ‘চ্যানেল ১৩’-এর সর্বশেষ বুথফেরত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো জোটই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, দুই প্রধান জোটের মধ্যে আসনসংখ্যায় সমতা থাকলেও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮টি আসন পেতে পারে। চার বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় আরব দলগুলোর এই ফল উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এটিকে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর রাজনীতিকেরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দিয়েছেন।
সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন নিয়ে দর-কষাকষি চলতে পারে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয় নেতাই সরকার গঠনের সুযোগ পেতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন। নেতানিয়াহু তাঁর দলের অবস্থান এবং আইজেনকোট বিরোধী জোটের সমর্থনের ভিত্তিতে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন।
কোনো পক্ষই ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ওই সময়ে দেশটিতে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু করেছে। বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফল নয়; ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা, সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা


















