মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

অরুণাচলে চীনা সেনাদের সঙ্গে মুখোমুখি ভারতীয় বাহিনী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ণ

Spread the love

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনাদের সঙ্গে একাধিক অমীমাংসিত মুখোমুখি অবস্থান চলছে। দেশটির চীন সীমান্তরক্ষী আধাসামরিক বাহিনী ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুরের এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনা।

২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ছয় বছর পর সীমান্তে নতুন উত্তেজনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক ভাবমূর্তির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে কাপুরের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন কয়েক মাস ধরে অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় সেনাদের টহলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর মধ্যেই গত মাসে সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগও জোরালো হয়েছে। তবে সীমান্তে নতুন উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

আইটিবিপির প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি অঞ্চলে চীনা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান এখনও অব্যাহত রয়েছে। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কমান্ডোরা সক্রিয় রয়েছেন।

ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধের ঐতিহাসিক শিকড় ১৯১৪ সালে নির্ধারিত ম্যাকমোহন রেখায়। ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সিমলা কনভেনশনের মাধ্যমে এ সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভারত স্বাধীনতার পর এটিকে চীনের সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও চীন তা প্রত্যাখ্যান করে। বেইজিং অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে অভিহিত করে। অন্যদিকে, বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চল চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

১৯৬২ সালে দুই দেশের যুদ্ধের পরও সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি কোথায়, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। পরে চীনও তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থির মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ চললেও সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত থাকা একটি ধারাবাহিক প্রবণতা। তাঁর ধারণা, বেইজিং চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এমন অবস্থান নিচ্ছে। সীমান্তের সুনির্দিষ্ট চিহ্নিতকরণ না থাকায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোদির বক্তব্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ক

২০২০ সালের সংঘর্ষের পর চীনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন নরেন্দ্র মোদি।

ওই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতীয় অংশে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেছিল চীন। মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল, চীনের পরিকল্পিত পদক্ষেপই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির জন্য দায়ী।

তবে এর দুই দিন পর মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ভারতের ভূখণ্ডে কেউ প্রবেশ করেনি এবং কেউ সেখানে অবস্থানও করছে না। সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, সংঘর্ষের পর ভারতীয় ভূখণ্ডে কোনো চীনা সেনা অবস্থান করছিল না—মোদি সেটিই বোঝাতে চেয়েছিলেন।

ছয় বছর পর অরুণাচল প্রদেশে নতুন করে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠায় মোদির জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক অবস্থান আবারও আলোচনায় এসেছে।

অরুণাচল প্রদেশের কংগ্রেস নেতা বসিরাম সিরাম দাবি করেছেন, চীনা সেনারা আপার সুবানসিরি এলাকায় ভারতের প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান নিয়েছে। গত আগস্টে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের পর তিনি জানান, পাহাড়ের চূড়ায় চীনা সেনাদের দেখা যাচ্ছে, আর ভারতীয় সেনারা রয়েছেন নিচে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, চীনা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত টহলব্যবস্থা থেকে সরে এলে সীমান্ত পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়। তবে চলমান মুখোমুখি অবস্থান সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনবিষয়ক অধ্যাপক বি আর দীপকের মতে, অনুপ্রবেশের অভিযোগ মোদির বিশ্বাসযোগ্যতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

২০১২ সাল থেকে সীমান্ত বিরোধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই দেশ যৌথ পরামর্শ ও সমন্বয়ব্যবস্থা চালু রেখেছে। গত ৬ আগস্ট এ ব্যবস্থার ৩৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে অরুণাচল প্রদেশে প্রথমবারের মতো কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে।

তবে দীপকের মতে, এসব আলোচনা সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করলেও কয়েক দশকের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধের স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না।

দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া সীমান্তে যেকোনো সমঝোতাই ভঙ্গুর থেকে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

নিজ কেন্দ্রে ৮৯৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে মির্জা আব্বাস

রাজধানীতে দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বন্দর পরিচালনা ইস্যুতে হাইকোর্টের দ্বিমতপূর্ণ রায়

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

বিরল সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং

হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘকে চিঠি দিচ্ছে সরকার, গুলিবর্ষণের দাবি নাকচ

খামেনি এখন ‘শহীদ’, যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ভুল করেছে’: বিশ্লেষক

একনেকে ১৬ প্রকল্প, দেশে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেনের উদ্যোগ