শুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাত চক্রে ভাড়াটে অপরাধী, আড়ালে প্রভাবশালীরা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। এসব অপরাধে পেশাদার ও ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করছে প্রভাবশালী চক্রগুলো। অপরাধে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হলেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিমানবন্দর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতদের জামিনে মুক্ত করতে এক শ্রেণির আইনজীবীর সঙ্গে চুক্তি রয়েছে অপরাধীদের। অনেক ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীরা বাকিতে আইনি সহায়তাও দেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পেশাদার ডাকাতদের ভাড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ডিবি পরিচয়ে ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট

গত ৬ জুলাই চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ডাকাত তাঁকে একটি কালো গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তাঁর চোখ ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাঁকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

খোরশেদের মতো প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের বিমানবন্দর এবং আশপাশের সড়কে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্যে গাড়ি থেকে মানুষকে নামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে সর্বস্ব লুট করে ভুক্তভোগীদের ফেলে রেখে যায় অপরাধীরা।

চুক্তিতে ডাকাতি, দ্রুত এলাকা ত্যাগ

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব ডাকাতির জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশাদার অপরাধীদের ভাড়া করা হয়। কেউ কেউ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে অপরাধ সংঘটন করে আবার নিজ এলাকায় ফিরে যায়। বিদেশ থেকে এসে ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তির মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়ার পর ডাকাতেরা পারিশ্রমিক পায়। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি একাধিক আলোচিত ডাকাতির মামলার তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ এ ধরনের চক্রের সন্ধান পেয়েছে। তবে অপরাধে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা গেলেও তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

জামিনে মুক্ত হয়ে ফের অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে একই ব্যক্তিদের আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। অপরাধীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনজীবীর সঙ্গে চুক্তি থাকার অভিযোগও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দরসহ উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। অনেক চেষ্টা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর ঘটনা ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে।

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব অপরাধে প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ - অপরাধ