রিট ও আইনি নোটিশের মূল বক্তব্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি তিনি সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। রিট আবেদনকারীর মূল দাবি হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাই একটি প্রতিষ্ঠিত আইন, প্রথা ও নীতি। তাই হঠাৎ করে রমজানে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এই দীর্ঘকালীন প্রথার পরিপন্থী এবং সাধারণ নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতি ও অভ্যাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাংবিধানিক যুক্তি ও অনুচ্ছেদসমূহ রিট আবেদনে সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়েছে:
- অনুচ্ছেদ ৩১: আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যা কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটায়।
- অনুচ্ছেদ ১৫২(১): এখানে ‘আইন’ শব্দের সংজ্ঞায় বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনজীবীর যুক্তি হলো, যেহেতু রমজানে স্কুল বন্ধ রাখা একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রথা, তাই এটিও আইনের সমতুল্য। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
যাতায়াত ও ধর্মীয় আচরণের ওপর প্রভাব রিট আবেদনে কয়েকটি বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে:
- কোমলমতি শিশুদের কষ্ট: সারাদিন স্কুলে যাতায়াত ও ক্লাসের চাপে শিশু-কিশোরদের রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়বে, যা তাদের ধর্মীয় আচার চর্চায় নিরুৎসাহিত করতে পারে।
- তীব্র যানজট: রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকলে শহরগুলোতে বিশেষ করে ইফতারের আগে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে রোজাদার ও সাধারণ নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
- শ্রমিক ও অভিভাবকদের সংকট: তীব্র গরম ও রোজার ক্লান্তি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের কর্মক্ষমতা এবং অভিভাবকদের যাতায়াত ব্যয় ও কষ্ট বৃদ্ধির আশঙ্কাও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রমজানে স্কুল ছুটির পক্ষে রিটকারীর প্রধান ৩টি যুক্তি:
- প্রথাগত আইন: স্বাধীনতার পর থেকে রমজানে স্কুল বন্ধ রাখাই বাংলাদেশের আইনি ঐতিহ্য।
- ধর্মীয় অধিকার: শিক্ষার্থীদের রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার পথে বাধা সৃষ্টি না করা।
- নাগরিক দুর্ভোগ: অতিরিক্ত যানজট ও গরমের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো।



















