দেশের প্রায় ৩৯ হাজার বেসরকারি এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জাল সনদ শনাক্ত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) বিরুদ্ধেই এখন দায়িত্ব অবহেলা ও ভয়াবহ ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই দপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা বর্তমানে সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে না গিয়ে অফিসে বসেই ‘মিনিস্ট্রি অডিট’ সম্পন্ন করছেন এবং বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে গত এক বছরে পরিদর্শনের সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে এবং দুর্নীতি শনাক্তে ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে, অডিটের নামে প্রথমে নিয়োগ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কথা বলে শিক্ষকদের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকার কোনো গোপন স্থানে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয় বলে জানা গেছে।
এত সব অনিয়মের ভিড়েও ডিআইএ কিছু কার্যক্রমের দাবি করেছে। তাদের তথ্যমতে, গত এক বছরে ৪০০-এর বেশি জাল ও ভুয়া সনদ চিহ্নিতকরণ, ৭৯৩ একর বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রায় ২৫৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে দপ্তরটির ভেতরেই একশ্রেণির সিনিয়র কর্মকর্তার শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং দীর্ঘ সাত বছর ধরে একই স্থানে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি ডিআইএ কর্তৃপক্ষ এক কঠোর বার্তায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং কারো বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।


















