সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসছে অক্টোবরে, ৭টি চার্টার্ড ফ্লাইট

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে এই জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে।

আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত রুটের আকাশসীমা ব্যবহারে একটি দেশের আপত্তির কারণে সেটি আসতে পারেনি। তবে সর্বশেষ তথ্যমতে, ওই আপত্তি আর নেই। ফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ইউরেনিয়ামবাহী ফ্লাইট বাংলাদেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

রোববার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, একটি দেশ তাদের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছিল। তবে রাশিয়া নতুন করে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশের জনসংযোগ সংস্থা ট্রাইউন গ্রুপ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে তথ্য দিয়ে আসছে। সংস্থাটির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সাধারণত বাংলাদেশে জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে পৌঁছানোর পরদিন সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। এতে সড়কে যানজট এড়ানো এবং দ্রুত প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো সহজ হয়। এ হিসাবে আগামী ১ অক্টোবর জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে রোসাটম ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী কার্গো ফ্লাইট বাংলাদেশে আসতে পারেনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জন্য জ্বালানি আসার কথা ছিল এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তবে রাশিয়া থেকে ফ্লাইটটি আসেনি।

রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, ফ্লাইটটির সময়সূচি বিলম্বিত হচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহে এটি নাও আসতে পারে। পরবর্তী ফ্লাইটের সময় পরে জানানো হবে বলেও জানানো হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরবর্তী জ্বালানিবাহী ফ্লাইটের সম্ভাব্য সময় লিখিতভাবে জানাতে রোসাটমকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো জ্বালানি বাংলাদেশে আসবে। এ সময়ে সাতটি ফ্লাইটে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্যও কিছু জ্বালানি আসবে।

ইতোমধ্যে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি রাশিয়া থেকে এনে লোড করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটে ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশের সাইকেল টাইম ১২ মাস। নির্ধারিত সময় শেষে এর একটি অংশ সরিয়ে পুনরায় জ্বালানি দেওয়ার প্রয়োজন হবে। এ কারণে এবারের প্রথম দুটি ফ্লাইটে প্রথম ইউনিটের রিলোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আসার কথা রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি আনার ফ্লাইট এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহনের সময় কাছাকাছি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সবগুলো ফ্লাইটকেই দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এদিকে আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর জ্বালানিবাহী বিমানকে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসতে হয়। ইউরেনিয়াম অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক জ্বালানি হওয়ায় কোনো কোনো দেশ এর পরিবহনকারী বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে আপত্তি জানিয়ে থাকতে পারে।

সর্বশেষ - অপরাধ