জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রসিকিউশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তদন্তের আওতায় থাকা সাত নেতা হলেন—আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, মির্জা আজম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হতে পারে। এরপর ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া এগোবে।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা, উসকানি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণের মতো অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না করা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামির মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান ও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই তা নির্ভর করছে।
সাত আসামিই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাদের ভূমিকা ছিল। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের ভূমিকা, আন্দোলন দমনে কথিত নির্দেশনা এবং সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসামিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে বিচারিক কার্যক্রম ও ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে।


















