ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর সময় সংঘাতটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। এবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে।
তার মতে, মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেহরানের পক্ষে আর দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের ডালাসে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পারমাণবিক আলোচনা এখন অগ্রাধিকার নয়
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এ কারণেই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা বর্তমানে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকারে নেই বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনায় ফিরতে চাইছে না। তবে প্রয়োজন হলে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।
তিনি বলেন, আলোচনা হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিয়ে ভাবছে না।
ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় শুধু পারমাণবিক চুক্তির বিষয় নয়, আরও বিস্তৃত ইস্যু অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, পারমাণবিক শক্তির বাইরেও আরও অনেক বিষয় রয়েছে।
এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব, সামরিক কার্যক্রম, অর্থনীতি ও অন্যান্য কৌশলগত বিষয় আলোচনার টেবিলে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের পারমাণবিক শক্তি থাকবে, যা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ।’
তবে ‘৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন বা কোন মাত্রার সক্ষমতার কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
হরমুজে ট্যাঙ্কার হামলার দাবি
সামরিক অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের প্রায় নয়টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আরও বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রুবিওর দাবি, ইরান পাঁচ ট্যাঙ্কার হারিয়েছে
এদিকে ইকুয়েডর সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সংঘাতের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো কোনো বাহ্যিক সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা ইরান পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এ ধরনের প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন।
রুবিও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার কারণে ইরানকে প্রতিনিয়ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তার দাবি, আগের রাতেও তেহরান আরও পাঁচটি ট্যাঙ্কার হারিয়েছে। এর মধ্যে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি সাগরে ডুবে গেছে।
ইরানের ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশটিকে অবরুদ্ধ করার কৌশলও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


















