গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট সংলগ্ন নিশাতনগর বস্তিতে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইফতারের পরবর্তী সময়ে ঘটা এই দুর্ঘটনায় বস্তির প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঘটনার সূত্রপাত ও বিস্তার
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে:
- সময়: আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
- স্থান: নিশাতনগর বস্তির ‘মিস্টার মিয়া’ নামক এক ব্যক্তির ঘর থেকে প্রথম আগুনের শিখা দেখা যায়।
- ক্ষয়ক্ষতি: মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিম্নবিত্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই প্রায় ৫০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল বের করার সুযোগ পাননি অনেকেই।
২. ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
খবর পাওয়ার সাথে সাথে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
- চ্যালেঞ্জ: ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৩ এর উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, বস্তি এলাকার রাস্তা অত্যন্ত সরু (ন্যারো) হওয়ায় এবং পানির সংকটের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কাজে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
- নিয়ন্ত্রণ: প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে সেখানে ‘ডাম্পিং’-এর কাজ চলছে যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পুনরায় আগুন না জ্বলে ওঠে।
৩. হতাহত ও তদন্ত
- হতাহতঃ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
- তদন্ত: আগুনের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মোট আর্থিক পরিমাণ নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
৪. বর্তমান অবস্থা ও ত্রাণ
হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নিয়েছেন বস্তির কয়েকশ বাসিন্দা। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
গাজীপুরের শিল্প এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।



















