দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে এবং বড় মুনাফা করা বহুজাতিক ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বিশেষ নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—জনগণের সম্পদ বা সেবা ব্যবহার করে যে কোম্পানিগুলো বড় মুনাফা করছে, সেই মুনাফার একটি অংশ আইপিও বা প্রফিট শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করার একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা।
পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি (PIC) ও তদারকি: বিএসইসি সূত্র জানায়, তারা ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ করছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো মূলধনের আকার নির্বিশেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই তালিকার আওতায় পড়বে। তবে সব পিআইসি-কে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে না। যারা তালিকাভুক্ত হবে না, তাদেরও একটি শক্তিশালী সুশাসন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। সেক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে তাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত আর্থিক বিবরণী ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করতে উৎসাহিত করা হবে, যাতে মূলধন কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
নীতিমালা কেন জরুরি? ২০১৯ সালের এক প্রজ্ঞাপনের ফলে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিএসইসির অনুমতি ছাড়াই মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তদারকির ক্ষমতা হারিয়েছিল। বর্তমানে কোম্পানিগুলো কেবল আরজেএসসি-তে তথ্য জমা দেয়, যেখানে স্বচ্ছতার অভাব থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সম্পদ ছাড়াই মূলধন বৃদ্ধি করে পরবর্তীতে আইপিও-তে আসার ঘটনাও ঘটেছে। আরজেএসসি-র তথ্যমতে, দেশে ২ লাখ ২৫ হাজারের বেশি প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রায় ৪ হাজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি থাকলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা মাত্র ৪০০-এর মতো।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়বে। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পিআইসি-গুলো আইনের আওতায় আসলে স্টকের সংখ্যা বাড়বে এবং কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত হবে।


















