১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটের মূল বক্তব্য ও যুক্তি
দায়ের করা রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সাংবিধানিক পরিপন্থি বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে মূলত বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন সরকারকে এই আইনটি বাতিল বা রহিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না।
আবেদনে রিটকারী আইনজীবী উল্লেখ করেন, এই আইনটি যে বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই আইনের সম্ভাব্য অপব্যবহার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রয়োগ রোধ করার স্বার্থেই আইনটি সম্পূর্ণভাবে রহিত বা বাতিল করা প্রয়োজন।
আইনের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও পূর্ববর্তী অবস্থান
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭(৩) দ্বারা বিশেষভাবে সুরক্ষিত (ব্ল্যাংকেট প্রটেকশন), যার কারণে এর বৈধতা বা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার সাধারণ কোনো সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত। এর আগেও ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার আসামি বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে করা আবেদনগুলো উচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। এবার নতুন করে পুরো আইনটিরই কার্যকারিতা ও বৈধতা বাতিল চেয়ে এই রিট আবেদনটি করা হলো।


















