মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার মধ্যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোতে বড় ধরনের রকেট হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
আল-জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হামলার বিবরণ ও সময়
হিজবুল্লাহ আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) ভোররাত থেকে এই রকেট ব্যারাজ বা মুহুর্মুহু হামলা শুরু করে:
- কিরিয়াত শমোনা: স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে এই শহরটি লক্ষ্য করে প্রথম রকেট হামলা চালানো হয়।
- দোভিভ বসতি: রাত ২টা ৪৫ মিনিটে দোভিভ বসতি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় আক্রমণ চালানো হয়।
- হামলার ব্যাপকতা: গত ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে মোট ৪৩টি হামলা চালিয়েছে।
২. কেন এই আক্রমণ?
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হামলার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:
- যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ইসরায়েলি বাহিনী ভঙ্গ করেছে বলে হিজবুল্লাহর অভিযোগ।
- বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা: দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর বারবার আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই রকেট হামলা চালিয়েছে।
৩. হিজবুল্লাহর কড়া হুঁশিয়ারি
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের এই আক্রমণ হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। তারা সতর্ক করে বলেছে:
“আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
৪. বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
হিজবুল্লাহর এই বড় ধরনের হামলা এমন এক সময়ে এলো যখন:
- ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ: পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
- মার্কিন হুমকি: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর নৌ-অবরোধের হুমকি দিয়েছেন এবং হিজবুল্লাহ-হামাসকে অর্থ সহায়তা বন্ধের শর্ত দিয়েছেন।
- আঞ্চলিক অস্থিরতা: ইসলামাবাদে চুক্তি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো (যেমন হিজবুল্লাহ, হুতি) তাদের সামরিক তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করেছিলেন, যার প্রতিফলন আজকের এই হামলায় দেখা যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহর এই মুহুর্মুহু রকেট হামলার পর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ইসরায়েল কোনো পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।



















