বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইঞ্জিন সংকটে রেলের পণ্য পরিবহন, কমছে কনটেইনার ট্রেন

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি পণ্য পরিবহন। তুলনামূলক কম খরচে বেশি আয় হওয়ায় যাত্রী পরিবহনের চেয়ে পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা রেলওয়ের জন্য বেশি লাভজনক। তবে দীর্ঘদিনের ইঞ্জিনসংকট, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাগত নানা সমস্যায় সম্ভাবনাময় এই খাতটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রেলওয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কমলাপুর রুটে কনটেইনার পরিবহন থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় করে রেলওয়ে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইঞ্জিন না পাওয়ায় এই আয়ের প্রধান উৎসে টান পড়েছে।

প্রয়োজন ১৩ ইঞ্জিন, মিলছে ৪-৫টি

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম-কমলাপুর রুটে প্রতিদিন পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রায় ১৩টি ইঞ্জিন প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫টি, যা প্রয়োজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ফলে কনটেইনার পরিবহনে জটিলতার মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। একসময় চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে প্রতিদিন কনটেইনারবাহী ট্রেন কমলাপুর আইসিডিসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করত। কনটেইনারবাহী ট্রেন ও বিভিন্ন অঞ্চলের তেলবাহী ওয়াগনের ব্যস্ততায় দিন-রাত সরগরম থাকত সিজিপিওয়াই।

তবে ইঞ্জিনসংকটের কারণে লাভজনক এই খাতের কার্যক্রম অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। ট্রেন চলাচল কমে যাওয়ায় একপর্যায়ে সিজিপিওয়াইয়ে কনটেইনারের স্তূপ জমে যায়।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাব, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা এবং কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের কাছে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডিমুখী কনটেইনার পরিবহন ক্রমেই কমছে। এতে কমলাপুর আইসিডি কার্যত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেলওয়ের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা আইসিডি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে কনটেইনার দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকছে। এতে আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা লোকসানের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য চার্জও গুনতে হচ্ছে।

প্রভাব পড়ছে সরবরাহ ব্যবস্থায়

আইসিডির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন, কাঁচামাল সরবরাহ এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাবেক রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেলওয়ের বক্তব্য

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য তাদের ১০ থেকে ১২টি ইঞ্জিন প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিনসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে ইঞ্জিনের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে ৪ থেকে ৫টি ইঞ্জিন দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, সিজিপিওয়াইয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার জানান, ইঞ্জিনের সমস্যা থাকলেও গত কয়েক মাসের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে সিজিপিওয়াই থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করছে।

তার দাবি, দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল না করায় সিজিপিওয়াইয়ে কনটেইনারের স্তূপ তৈরি হলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, রেলের পণ্য পরিবহন খাতকে পুরো সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

সর্বশেষ - অপরাধ