বুধবার , ১০ জুন ২০২৬ | ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১০, ২০২৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার. এখন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল পাঠ্যক্রমে প্রথাগত বিষয়ের পাশাপাশি সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে. আজ বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ. সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা.

নতুন পাঠ্যবই ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ ও রোডম্যাপ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ না বাড়িয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও ব্যবহারিক উপায়ে এই বিষয়গুলো শেখানো হবে:

  • ২০২৭ সালের পরিকল্পনা: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আধুনিক পাঠ্যবই চালু করা হবে. এই বিশেষ বইটির ৪টি পৃথক অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা বিষয়গুলোকে সুন্দরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা থাকবে.
  • ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ রূপ: প্রাথমিকভাবে চতুর্থ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর, আগামী ২০২৮ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের পূর্ণাঙ্গ আওতায় এই বিষয়গুলোকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের.

কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত ও শিক্ষক নিয়োগের বড় সুযোগ

প্রাথমিক শিক্ষায় এই সৃজনশীল বিষয়গুলোর সংযোজন দেশের বেকার ও উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের জন্য চাকরির এক বিশাল ও নতুন দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে:

  • বিপুল কর্মসংস্থান: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, নতুন বিষয়গুলো সফলভাবে সশরীরে পাঠদানের জন্য দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক, ট্রেইনার ও কালচারাল প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে. সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই বিশেষায়িত খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরির এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা রয়েছে.
  • ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার: দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা এবং নাট্যকলা বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার এটি একটি দারুণ ও ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে.

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বয় ও শিক্ষকতা মডিউল

বিশেষায়িত যোগ্যতাসম্পন্ন এই গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি প্রাথমিকে নিয়োগের সুবিধার্থে সরকার দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে নীতিগত আলোচনা শুরু করেছে:

  • প্রশিক্ষণ মডিউল: সংশ্লিষ্ট চারুকলা, সংগীত বা থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সরাসরি নিয়োগের জন্য যোগ্য করে তুলতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল পাঠ্যক্রমেই ‘শিক্ষকতা-সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ’ বা একটি প্রস্তুতিমূলক পেডাগোজি মডিউল যুক্ত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে. এর ফলে শিক্ষার্থীরা পাস করার পরপরই কোনো বাড়তি ডিপ্লোমা ছাড়াই সরাসরি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন.
  • শিক্ষা-দর্শন: বর্তমান সরকারের মূল শিক্ষা-দর্শনের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থ বিদ্যায় আবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা. প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক এই আধুনিক শিক্ষা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রেখে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও অনেক বেশি দক্ষ ও মানবিক করে তুলবে.

সর্বশেষ - অপরাধ