রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে রাত সাড়ে ১২টার পর নদীর প্রায় ৮০-৯০ ফুট গভীর থেকে বাসটি টেনে তোলা সম্ভব হয়।
উদ্ধার হওয়া ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শনাক্ত হওয়া কয়েকজনের নাম হলো: রেহেনা আক্তার (৬১), মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), ইস্রাফিল (৩), আরমান খান (৩১), এবং ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান। বাসে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন দুর্ঘটনার পরপরই জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ-র ডুবুরি দল, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এবং স্থানীয় ডুবুরিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাসটি উপরে তোলা হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ অন্য কোনো যাত্রী আছেন কি না তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



















