প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের প্রথম কয়েক মাসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে আশার সঞ্চার করেছেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর inherited অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নানা সমস্যাও এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং, শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি এবং জ্বালানি সংগ্রহে নানা জটিলতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প খাতে গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি ও কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলসহ বিভিন্ন কারণ বর্তমান সংকটকে তীব্র করেছে। তবে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং সমন্বয়হীনতাও পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন। সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি সংকটের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ করে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির বিকল্প উৎস ব্যবহার এবং শিল্প খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও এসেছে।
একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে সমন্বয় ও ইতিবাচক বার্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময়েও স্বাভাবিক হবে না—এ ধরনের বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, অনিয়ম বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো চক্র থাকলে তা শনাক্ত করা এবং দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। অর্থনীতি ও শিল্প খাতকে সচল রাখতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি করা গেলে সরকারের শুরুতে তৈরি হওয়া ইতিবাচক প্রত্যাশা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















