বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার (IQAir)-এর তালিকায় ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পাওয়া গেছে। এই দূষণ বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আজকের বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরসমূহ (AQI স্কোর অনুযায়ী)
তালিকায় দেখা গেছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই বর্তমানে সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় রয়েছে। শীর্ষ পাঁচটি শহরের অবস্থান নিম্নরূপ:
- ১ম: চিয়াং মাই, থাইল্যান্ড (স্কোর: ২৪৯) — খুব অস্বাস্থ্যকর
- ২য়: লাহোর, পাকিস্তান (স্কোর: ১৬৫) — অস্বাস্থ্যকর
- ৩য়: সাংহাই, চীন (স্কোর: ১৫৭) — অস্বাস্থ্যকর
- ৪র্থ: ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমার (স্কোর: ১৫৩) — অস্বাস্থ্যকর
- ৫ম: কাঠমান্ডু, নেপাল (স্কোর: ১৫৩) — অস্বাস্থ্যকর
এছাড়াও তালিকায় জাকার্তা (১৪২), উহান (১৩২), ভারতের দিল্লি (১২৪) এবং রাশিয়ার ক্রাসনোইয়ার্স্ক (১১২) শহরগুলো রয়েছে।
২. বায়ুমান সূচক (AQI) ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
একিউআই স্কোর অনুযায়ী বাতাসের গুণাগুণকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়:
- ০-৫০: ভালো।
- ৫১-১০০: মাঝারি।
- ১০১-১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
- ১৫১-২০০: অস্বাস্থ্যকর (ঢাকার বর্তমান অবস্থা এই স্তরে)।
- ২০১-৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর (চিয়াং মাই এই স্তরে)।
- ৩০১+: ঝুঁকিপূর্ণ (মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি)।
৩. দূষণের উৎস ও প্রভাব
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ মূলত পাঁচটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়: বস্তুকণা (PM-10 ও PM-2.5), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন। বিশেষজ্ঞদের মতে:
- সবচেয়ে ক্ষতিকর: PM-2.5 নামক সূক্ষ্ম বস্তুকণা, যা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- প্রধান উৎস: যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং উন্মুক্ত স্থানে জ্বালানি পোড়ানো।
বর্তমানে ঢাকার বাতাসের যে অবস্থা, তাতে ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা এবং বিশেষ করে শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরের কর্মকাণ্ড সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



















