দেশে বিদ্যুতের প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা সামলাতে চরম হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। গ্যাস সংকট, পায়রা ও আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং তেলচালিত কেন্দ্র চালানোর তীব্র অর্থসংকটের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে লোডশেডিং ছড়িয়ে পড়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্যমতে, গত সোমবার মধ্যরাতে দেশজুড়ে রেকর্ড ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ। রাজধানী ঢাকা অঞ্চলে সর্বাধিক ৫৪৭ মেগাওয়াট লোডশেড হলেও ঘণ্টার হিসেবে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক ছিল। আগস্টের শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বড় অংশ অলস বসে আছে। বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর ভরসা করার কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কয়লা খালাসে বিলম্বের কারণে পটুয়াখালী, রামপাল, বড়পুকুরিয়া এবং ভারতের আদানির কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় এবং পিডিবির বকেয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোয় সেগুলোও পূর্ণ শক্তিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাত গভীর হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে, যা বিদ্যুৎ বিভাগকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।


















