পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী পাঠাতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে সামরিক বিশ্লেষক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান মার্কিন মেরিন ও ছত্রীসেনাদের জন্য একটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হতে পারে। রসদ সরবরাহে ঘাটতি এবং অস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তুর কারণে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
অভিযানের সম্ভাব্য কৌশল ও লক্ষ্যবস্তুগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- আক্রমণের শুরু: মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ সেথ ক্রুমরিক জানান, সরাসরি হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক ‘ইলেকট্রনিক যুদ্ধ’ শুরু করবে। এর মাধ্যমে ইরানের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যাম করে দেওয়া হবে এবং এরপর শুরু হবে বিধ্বংসী বিমান হামলা।
- তিনটি প্রধান লক্ষ্যবস্তু:
- খারগ দ্বীপ: এটি ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ, যেখান থেকে দেশটির ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। এটি দখল করতে পারলে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে।
- আবু মুসা ও ছোট দুটি দ্বীপ: পারস্য উপসাগরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- কেশম দ্বীপ: এটি দখল করা সবচেয়ে কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আয়তনে বড় এই দ্বীপে ইরানের বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেখানে অসংখ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখা হয়েছে।
- আকাশপথের ওপর নির্ভরতা: সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস মনে করেন, সমুদ্রপথে জাহাজ নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রায় অসম্ভব। কারণ সেখানে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ভি-২২ অস্প্রে, চিনুক এবং ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথে সেনা নামানোর চেষ্টা করবে।
- মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার দাবি করেছেন যে, স্থলসেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম। তবে বাস্তবে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী বাহিনী পাঠাচ্ছে, যা বড় ধরনের যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো সমুদ্র থেকে উপকূলে উঠে আসা (আইও জিমা স্টাইল) এখন আর সম্ভব নয়। ইরানের আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সামনে মার্কিন রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা অরক্ষিত হয়ে পড়লে এই অভিযান ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।



















