পাকিস্তান সফর এবং সেখানে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা আকস্মিকভাবে বাতিল করে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ‘টেলিফোন কূটনীতি’র ওপর জোর দিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, একটি অসম্পূর্ণ চুক্তির জন্য ইসলামাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণের কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। ট্রাম্পের মতে, তেহরানের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে তা এখনো ওয়াশিংটনের কাছে সন্তোষজনক নয়। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করে তিনি জানিয়েছেন, টেলিফোনের মাধ্যমেই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফোনালাপ এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
চলমান এই আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক ইস্যু। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছে যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, তেহরান পারমাণবিক বিষয়টিকে আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য রাখতে চাইলেও ওয়াশিংটন একেই প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প একদিকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রাখছেন এবং অন্যদিকে আলোচনার সুযোগ দিয়ে তেহরানকে একটি ‘চৌকস চুক্তিতে’ বাধ্য করতে চাইছেন। ১ মে’র সময়সীমার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমাধান না এলেও এই টেলিফোনিক যোগাযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উভয় পক্ষই সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে একটি সম্মানজনক চুক্তির পথ খুঁজছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই



















