কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলো প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অপরাধী চক্রের সহিংসতায় এক ভীতিকর ‘মৃত্যু উপত্যকায়’ পরিণত হয়েছে। মাদক কারবারের বিপুল কোটি টাকার ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণ, ব্লকে ব্লকে একচ্ছত্র চাঁদাবাজি এবং নিজস্ব আধিপত্য বা ‘অপারেশনাল কমান্ড’ প্রতিষ্ঠার জেরে ক্যাম্পে একের পর এক নিখুঁত ‘টার্গেট কিলিং’-এর ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী তথ্যে দেখা গেছে, গত তিন বছরেই সাধারণ রোহিঙ্গাদের অধিকার, শিক্ষার প্রসারের পক্ষে সোচ্চার এবং মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের স্বপক্ষে কথা বলা অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গা নেতা, হেড মাঝি ও সাব-মাঝিকে নৃশংভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের তুলনায় সার্বিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও সুনির্দিষ্ট সামাজিক নেতৃত্ব বা শিক্ষকদের লক্ষ্য করে এই পরিকল্পিত হত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমানে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা, আরএসও, এআরএ-সহ ৭টি প্রধান সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মাস্টার মুন্না, নবী হোসেন ও জাবু ডাকাত বাহিনীর মতো অন্তত ৪০টি সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা ও ‘আইস’ এর চালানের রুট নিয়ন্ত্রণ, রেশন বণ্টনে প্রভাব বিস্তার এবং ক্যাম্পের দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায়ের জন্য আধিপত্যের লড়াইয়ে লিপ্ত। মাঝিরা তাদের দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সাধারণ তরুণেরা অস্ত্র হাতে নিতে অসম্মতি জানালে তাঁদেরও স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এপিবিএন-১৪-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমিন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত করে পুরোপুরি আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এবং মাদকের আন্তর্জাতিক রুট বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত এই টার্গেট কিলিং বন্ধ করা কঠিন হবে।


















