ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও লোহিত সাগরে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন বহুজাতিক সামরিক নৌ জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-জোটে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর ও ইয়েমেনের পাশাপাশি অন্যতম সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে বাংলাদেশেরও। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে থাকায় সৌদি আরব তাদের জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন সংকট তৈরি করায় এই যৌথ সীমান্ত ও নৌ নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সামরিক বিশ্লেষকরা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কৌশলগত কিন্তু সংবেদনশীল বলে মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদিতে কর্মরত ২৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা ও শ্রমবাজার ধরে রাখা এবং লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি যৌথ মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই জোটে যুক্ত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ এত দিন ধরে বজায় রাখা নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে ঝুঁকি প্রকাশ করছেন সাবেক সামরিক কর্তারা। প্রধানত, ইরানের সাথে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হওয়ার শঙ্কা এবং জাতিসংঘ বহির্ভূত কোনো সক্রিয় সংঘাতময় সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশি নৌবাহিনী কোনো সামরিক ঝুঁকির মুখে পড়বে কি না—সেই নিরাপত্তা সমীকরণটি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


















