গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পরও মানবিক পরিস্থিতিতে তেমন উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। কিছুটা বেশি খাদ্যসহায়তা পৌঁছালেও কমিউনিটি রান্নাঘরগুলোতে এখনো মৌলিক পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
মধ্য গাজার আল-জুয়াইদার অ্যানেরা পরিচালিত বৃহত্তম রান্নাঘরগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জন্য একমাত্র গরম খাবার তৈরি হচ্ছে। অ্যানেরার দলনেতা সামি মাতার জানান, প্রতিদিনের প্রস্তুত পাত্রের সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে এখন ১২০-এ পৌঁছেছে। ৬ মাস আগে যেখানে ৯০০ পরিবারকে খাদ্য দেওয়া হতো, এখন তা হাজারের বেশি।
তবে খাদ্য বৈচিত্র্য নেই; সপ্তাহে শুধু ভাত, পাস্তা ও ডাল ঘুরেফিরে রান্না হচ্ছে। মাংস ও মুরগির মতো প্রোটিনজাতীয় খাবারের ওপর এখনও নিষেধাজ্ঞা আছে।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চলাকালে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। রান্নার সরঞ্জাম, গ্যাস সিলিন্ডার ও প্যাকেজিং সামগ্রীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, কমিউনিটি রান্নাঘরগুলো প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ মানুষের খাবার পরিবেশন করছে, তবে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের জন্য এটি যথেষ্ট নয়।
স্থানীয়রা বলছেন, শীতের বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা, অস্থায়ী তাঁবুতে জীবনযাপন এবং খাবারের ঘাটতি সব মিলিয়ে তাদের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে। গাজার বাসিন্দা আইদা সালহা বলেন, “যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তবতায় তেমন পরিবর্তন নেই; আমরা পুরোপুরি কমিউনিটি রান্নাঘরের ওপর নির্ভর।”
অ্যানেরার কর্মী সামি মাতার বলেন, “মানুষ শুধু নিরাপদে থাকতে চায়, নিজের ঘরে ফিরে যেতে চায় এবং সন্তানদের জন্য এক বেলা খাবার চাই।
সূত্র: বিবিসি



















