ইরানের ওপর চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোব্লেস ঘোষণা করেছেন যে, ইরানে হামলার সাথে জড়িত কোনো মার্কিন সামরিক বিমান স্পেনের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
স্পেনের এই কঠোর অবস্থানের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- আকাশপথ ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা: প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোব্লেস মাদ্রিদে সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেন, “ইরান যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আমাদের সামরিক ঘাঁটি বা আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি না।” এর ফলে যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারের ওপর আগে থেকে থাকা বিধিনিষেধ আরও প্রসারিত হলো।
- আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমর্থন: স্পেনের অর্থনীতিমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী যেকোনো যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্পেনের নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই এই অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছেন।
- বিকল্প পথের চ্যালেঞ্জ: এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইউরোপীয় আকাশপথ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মার্কিন বিমানগুলো বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে এবং তারা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথ ব্যবহারে বাধ্য হবে। তবে মানবিক বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
- ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি: স্পেনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ‘বাণিজ্যিক প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
- যুদ্ধের ৩১তম দিন: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ আজ ৩১তম দিনে গড়িয়েছে। ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন স্থাপনাগুলোতে অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রয়েছে।
স্পেনের এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অন্য দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন নিয়ে তৈরি হওয়া বিভক্তি এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সূত্র : আল-জাজিরা।



















