আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বরোজেদ্দি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, প্রতিটি জাহাজকে এই পথ অতিক্রম করতে প্রায় ২০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা) ফি দিতে হচ্ছে। এই অর্থ পরিশোধ না করলে কোনো জাহাজকেই প্রণালীটি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বরোজেদ্দির মতে, চলমান যুদ্ধের খরচ মেটাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা একই সাথে এই অঞ্চলে ইরানের শক্তির জানান দিচ্ছে।
যদিও এই ২০ লাখ ডলারের ফি সব দেশের জাহাজের জন্য প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই জলপথে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলো যদি ইরানকে অর্থ প্রদান করে, তবে আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে কয়েক ডজন জাহাজ আটকে আছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন যে, শত্রু দেশ বাদে অন্য কারো জন্য এই পথে কোনো বাধা নেই, তবে বাস্তবে টোল আদায়ের এই খবর বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।



















