রবিবার , ৫ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আ.লীগের বিচার হবে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৫, ২০২৬ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

রাজনৈতিক দল বা সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার দলটির শাসননামলে প্রণীত আইনেই করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের পক্ষ থেকে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তে দলটির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ বা অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের তৈরি করা দুই আইনেই বিচারের বিধান

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, টানা ১৬ বছরের শাসনামলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সারা দেশে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব) আওতায় এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বহু অপরাধ সংঘটন করেছে, যার সুনির্দিষ্ট বিচারের ব্যবস্থা দলটির তৈরি করা আইনেই রয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ (সংশোধিত ২০১৩): স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই আইনটি প্রণয়ন করে এবং ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার এর অধীনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এই আইনে বিশেষ সংশোধন এনে ব্যক্তি আসামির পাশাপাশি ‘অর্গানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটিকে অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯: ২০০৯ সালে সরকারে এসে এই আইনটি পাস করে আওয়ামী লীগ। এই আইনের বিশেষ ধারায় কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি যেকোনো ‘সত্তার’ বা সংগঠনের বিচারের বিধান সুস্পষ্ট করা হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের ১ আগস্ট এই আইনের ১৮ ধারা ব্যবহার করেই তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল।

চিফ প্রসিকিউটর মনে করিয়ে দেন, দল নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচারের এই সব কঠোর আইন অন্য কোনো সরকার নয়, বরং আওয়ামী লীগ নিজেই বিভিন্ন সময় তৈরি ও সংশোধন করে রেখে গেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দলটির তৈরি করা আইনই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং দল হিসেবে তাদের বিচারও এই আইনেই হবে।

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ ও ২৪-এর জুলাই-আগস্ট হত্যাযজ্ঞ

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তারা দেশের মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেয় এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়। সে সময় রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, যার ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর এ দেশের মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবন ও মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ ছিল না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ফ্যাসিবাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে রাতের ভোট, একদলীয় নির্বাচন এবং ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মতো তিনটি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময়। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরাও মাঠপর্যায়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। এই সমস্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের সামগ্রিক নথিপত্র ও অভিযোগ বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর।

সর্বশেষ - অপরাধ