শনিবার , ২৭ জুন ২০২৬ | ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে মার্কিন পাল্টা হামলা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৭, ২০২৬ ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

হরমুজ প্রণালিতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘বোকামিপূর্ণভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় শুক্রবার (২৬ জুন) এই সামরিক অভিযান চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই আকস্মিক ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেন্টকমের ‘নির্ভুল ও শক্তিশালী’ জবাব

উদ্ধারকৃত তথ্য ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, শুক্রবার মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের মূল ভূখণ্ডের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার (স্টোরেজ) এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলো লক্ষ্য করে অত্যন্ত নির্ভুল ও শক্তিশালী হামলা (Precision Strikes) পরিচালনা করেছে। সেন্টকম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছাকাছি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এমভি এভার লাভলি’ (M/V Ever Lovely) নামক একটি কার্গো জাহাজে ইরানের ছোড়া ‘ওয়ান-ওয়ে’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতের উপযুক্ত জবাব হিসেবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানি বাহিনীর এই উসকানিমূলক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার মুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

অল্পের জন্য রক্ষা, তবে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের ওই ড্রোন হামলায় কার্গো জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো নাবিক হতাহত হননি। তবে ওই অঞ্চলের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং পরবর্তী সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম এজেন্সির পক্ষ থেকে প্রণালিতে আটকে থাকা বিভিন্ন জাহাজের প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের এই নতুন সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেই উদ্ধার ও অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কায় ঐতিহাসিক ১৪ দফা সমঝোতা

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করতে গত ১৭ জুন এক ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা এই ১৪ দফা সমঝোতার (ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম) অধীনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই এই ড্রোন হামলা এবং মার্কিন বিমান হামলার ফলে এই শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা আবারও গভীর শঙ্কার মুখে পড়েছে। হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর পক্ষ থেকেও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করা হয়েছে এবং আমেরিকা পুনরায় আক্রমণ করলে আরও বড় ধরনের জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ