বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ণ

Spread the love

দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে তিনি ঘোষণা দেন যে, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে এখন অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ওপর আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত এই জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় মূলত বাংলাদেশে সফলভাবে পরিচালিত ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের চার বছরের প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।

চিকিৎসার অভাবে প্রাণহানি রোধে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বা চিকিৎসার অভাবে যেন আর একটি মানুষেরও অকাল প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন:

  • দুর্গম এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স: দেশের চরাঞ্চল, পাহাড়ী অঞ্চল ও সকল দুর্গম এলাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুততম সময়ে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে বা জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।
  • আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব: বিভিন্ন নামী আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সরকার অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফ (UNICEF) বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ।

সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের চার বছরের সাফল্য

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের বড় বড় শহরগুলোতে নগর জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও এখনো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিশু ও মা সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা চ্যলেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই সংকট দূর করতে ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই ক্লিনিকগুলো জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের (ESP++) আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে।

আলো ক্লিনিক মডেলের মূল ফিচারঅর্জন ও বর্তমান সেবার পরিসংখ্যান
প্রদত্ত সেবাসমূহমাতৃ ও নবজাতক যত্ন, শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং এবং বিনামূল্যে রোগনির্ণয় ও ওষুধ।
দৈনিক রোগী সেবাপ্রতিটি আলো ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন প্রান্তিক ও নগরবাসী রোগী সেবা গ্রহণ করছেন।
২৪/৭ নরমাল ডেলিভারি৬টি ক্লিনিকের মধ্যে ৪টিতেই ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার সচল।
নিরাপদ প্রসবের রেকর্ড২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬-এর বর্তমান সময় পর্যন্ত ১,০০০-এর বেশি নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারিত্বে এবং সুইডেন সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (UNICEF) এই উদ্ভাবনী ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলটি মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে। এই মডেলের ৪ বছরেরও বেশি সময়ের সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার ভবিষ্যতে নগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ বা পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে কর্মশালায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সর্বশেষ - অপরাধ