যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগাম ঘোষণার পর ইরানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছেন. শনিবার (১৩ জুন) রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি. এই সাক্ষাৎকার প্রচারের পরপরই রাজধানী তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে এবং মাসহাদে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক ভবনের সামনে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন. তেহরানের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জোরেশোরে স্লোগান দেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করেন.
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ইরানি জনগণের এই ক্ষোভের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে:
- কঠোর স্লোগান: ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো চাদর পরিহিত এক নারী কালো ও লাল পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন.
- স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা: বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ও ক্ষোভের জায়গা হলো—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমস্ত শর্তে এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে না.
- নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়: তাদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান নিজেদের কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ‘হরমুজ প্রণালি’-র ওপর থেকে নিজস্ব একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলবে.
- বেশি ছাড় দেওয়ার অভিযোগ: আন্দোলনকারীদের সরাসরি অভিযোগ, চুক্তিটি সম্পন্ন করতে গিয়ে বর্তমান ইরানি আলোচক ও কূটনীতিকরা মার্কিন প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে দিয়েছেন.
ট্রাম্পের দাবি ও ইরান সরকারের দ্বিমুখী অবস্থান
এই বিক্ষোভের মূল সূত্রপাত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দেওয়া কিছু মন্তব্যের পর থেকে:
| পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি | চুক্তি নিয়ে প্রদত্ত দাবি ও অবস্থান |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) | শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিটি রোববারই (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে. তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নিশ্চিত হবে. |
| শাহবাজ শরিফ (পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী) | ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও চুক্তি সইয়ের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে. |
| ইসমাঈল বাঘাই (ইরানের মুখপাত্র) | মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রোববারে চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো ধরনের পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি তাদের নেই. তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন. |


















