রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ডিএনএ প্রোফাইলিং, ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্টের চূড়ান্ত অনুলিপি হাতে পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাব ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দপ্তর থেকে মামলার মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন এই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও আইনি নথিসমূহ সংগ্রহ করেছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ফরেনসিক ও মেডিকেল রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে আদালতে দাখিলের জন্য একটি নিশ্ছিদ্র ও তথ্যপ্রমাণনির্ভর ডিজিটাল অভিযোগপত্র (চার্জশিট) তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে; সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে এই চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফুটফুটে শিশু রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, যার পরপরই জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত লম্পট সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তার অপরাধের সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এবং ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মূল ঘাতক সোহেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে গত বুধবার আদালতে নিজের অপরাধের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি সোহেল রানা, যার ফলে সিআইডির এই ডিএনএ ও ফরেনসিক পজিটিভ রিপোর্ট আদালতে তার সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ও অকাট্য আইনি দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।


















