শনিবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

নিষ্পত্তির অপেক্ষায় বিএনপির ২৮টি আসন

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
ডিসেম্বর ৬, ২০২৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

সম্প্রতি দুই দফায় ২৭২ আসনে একক সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এই তালিকা প্রকাশের পর যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক শীর্ষ নেতা বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। কারণ, এদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন। এখনো ২৮টি আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি—যার অধিকাংশই মিত্র দলগুলোর জন্য বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু আসন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধও রয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপি দ্রুত সময়ের মধ্যে মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে চায়।

বিএনপির নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের চাহিদামতো আসন সমঝোতা করতে গিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো—আরপিও সংশোধনের ফলে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিটি দলকে নিজস্ব প্রতীকে ভোট করতে হবে। ছোট দলগুলোর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে, কারণ তারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, শরিক দলের প্রার্থীদের বাছাইয়ে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং জোটের প্রয়োজনীয়তাসহ নানা বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ ২২টি আসন শরিকদের দিতে পারে বিএনপি। এসব আসনের মধ্যে কয়েকটিতে ইতোমধ্যে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার বলেন, সমমনা মিত্র দলগুলোর জন্য কিছু আসন রাখা হয়েছে। এগুলো নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে দল নিজের লাভ–ক্ষতি বিবেচনা করে থাকে। মিত্রদেরকে আসন দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কিছু আসন এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে। কেউ বাদ পড়লে তাদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

কোন আসন কার জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে—তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। পিরোজপুর-১ আসনে জাপা (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৭ এ বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, লক্ষ্মীপুর-১ এ এলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা-১৩ এ এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এ জোনায়েদ সাকি, চট্টগ্রাম-১৪ এ অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ এ ড. রেদোয়ান আহমেদ, পটুয়াখালী-৩ এ নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-২ এ রাশেদ খানের জন্য আসনগুলো রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জমিয়তের কয়েকজন নেতা—উবায়দুল্লাহ ফারুক (সিলেট-৫), মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (নীলফামারী-১), মোহাম্মদ আলী (সিলেট-৪), জুনায়েদ আল হাবিব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মনির হোসেন কাসেমী (নারায়ণগঞ্জ-৪), মোখলেছুর রহমান চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ-১), শোয়ায়েব আহমদ (সুনামগঞ্জ-২)—আসন দাবি করায় বিএনপি এখনো এসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে রেদোয়ান আহমেদ, সেলিম, পার্থ, ওমর ফারুক ও ববি হাজ্জাজ সবুজ সংকেত পেয়েছেন।

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব এবার নির্বাচনে অংশ না নিলেও তার স্ত্রী তানিয়া রবের জন্য লক্ষ্মীপুর-৪ আসন দাবি করেছে জেএসডি। কিন্তু এই আসন বিএনপি ছাড়তে রাজি নয়; কারণ এখানে সাবেক এমপি এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সবুজ সংকেত দিয়েছে দলটি। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে জেএসডি এখন এনসিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে জোট আলোচনায় বসেছে।

ময়মনসিংহ-১০ আসনে এলডিপির সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদও আলোচনায় আছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি জোট প্রার্থী ছিলেন। এবারও তাকে আসন ছাড়ার কথা বিবেচনায় রয়েছে। পাবনা-১ আসনে গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদও শরিকদের তালিকায় এগিয়ে।

এদিকে দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় নড়াইল-২, কিশোরগঞ্জ-৫, ঝালকাঠি-১ ও যশোর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করায় মিত্রদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এ চার দলের প্রধানরা এলাকায় সক্রিয় গণসংযোগ চালিয়েও আসন পাননি। অনেকে এটিকে ‘প্রতিশ্রুতিভঙ্গ’ হিসেবে দেখছেন।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ১২ দলীয় জোট বৈঠক করে। বৈঠক শেষে জানানো হয়, শরিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা হতাশ। সোমবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী করণীয় ঘোষণা করা হবে। তবে এলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত