বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে তার এই জয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, লিবারেল পার্টির বর্তমান আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪টিতে, যা তাদের ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলভাবে সরকার পরিচালনার সুযোগ করে দেবে।
ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে টানা তিনবার এমপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে তিনি কানাডার কোনো আইন পরিষদের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে নাম লিখিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও, দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তিনি লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের ছেড়ে দেওয়া আসনে তার এই বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী কার্নি পরিশ্রম ও নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজারের মনু নদের পাড়ে বেড়ে ওঠা ডলি বেগম মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সাথে কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই মেধাবী নেত্রী এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আবাসন সংকট নিরসন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। তার এই অভাবনীয় সাফল্য প্রবাসে বাংলাদেশিদের গৌরব বাড়িয়েছে এবং কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


















