ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন এক ঐতিহাসিক ও কর্মব্যস্ত সময় পার করছে। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সকাল ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন শুরু হয়েছে।
আজকের সংসদীয় কার্যবিবরণী ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিপুল সংখ্যক বিল পাস ও আইনি তৎপরতা
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন গতি দেখা গেছে:
- রেকর্ড বিল পাস: গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনেই ৩১টি বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস সম্পন্ন হয়েছে।
- মোট পরিসংখ্যান: এই অধিবেশনে এ পর্যন্ত মোট ৬৮টি বিল পাস হয়েছে।
- ছুটির দিনে অধিবেশনের কারণ: বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল ও অধ্যাদেশ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাস করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সংকট নিরসনেই ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গতকাল ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও সংসদ চলবে।
২. ৩০০ বিধিতে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য: অর্থনীতির শ্বেতপত্র
অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন। তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- দুর্নীতির অভিযোগ: তিনি বিগত ১৬ বছরের শাসনামলকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেই সময়ে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
- বর্তমান চ্যালেঞ্জ: ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়ার বর্তমান অবস্থা তিনি তুলে ধরেন।
৩. উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ
সংসদ কক্ষে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে:
- প্রধানমন্ত্রী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
- বিরোধী দল: বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান-সহ সরকারি ও বিরোধী দলের প্রায় সকল সংসদ সদস্য উপস্থিত রয়েছেন।
৪. আজকের সম্ভাব্য কার্যক্রম
বিকেলের অধিবেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন ও পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংস্কার এবং বিচার বিভাগীয় পৃথকীকরণ সংক্রান্ত বিলগুলো নিয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়েও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ছুটির দিনে অধিবেশন বসিয়ে এত দ্রুত বিপুল সংখ্যক বিল পাস হওয়াকে বিশ্লেষকরা দেশের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।



















