সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রভাবশালী দুই আমলা আবুল কালাম আজাদ এবং তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আবুল কালাম আজাদ কেবল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেননি, বরং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবেও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি জামালপুর-৫ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার এই ধারাবাহিকতার কারণে তাঁর সময়ে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন এখন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
অন্যদিকে তোফাজ্জল হোসেন মিয়াও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলো ধাপে ধাপে অতিক্রম করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ থেকে শুরু করে কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মুখ্য সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবেও ক্রীড়াঙ্গনে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর চুক্তিকালীন নিয়োগ বাতিল করা হয়। বিএফআইইউ বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তদন্তের পরিধি কেবল তাঁর পেশাগত আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
এই দুই কর্মকর্তার দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা এবং বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায়, কোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ বা অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই এই তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল হাতে আসবে। এটি মূলত বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি বিরোধী কঠোর অবস্থানের একটি বহিঃপ্রকাশ, যেখানে সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।



















