রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইঞ্জিনিয়ার রাকিব হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনার তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম আদালতে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে এজাহারভুক্ত অন্য ৪৯ জন আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা বা উপস্থিতি সংক্রান্ত প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় এবং কারও নাম অসৎ উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আন্দোলন দমনে নির্দেশ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসামিরা গোপন বৈঠক ও ষড়যন্ত্র করে আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমানোর চেষ্টা চালান। ওই বছরের ১৭ জুলাই রাতে মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনকারীদের মিছিলে ছোঁড়া গুলিতে গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বনানী সুপার জুটমিলের সহকারী ম্যানেজার ও এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েট রাকিব হোসেন। তৎকালীন দমন-পীড়নের কারণে লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছিল। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তারা রয়েছেন। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।


















