‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পর্দা উঠছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর। দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রাণের মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে আজ থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবারের মেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি এবং শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান তাদের সৃজনশীল সম্ভার নিয়ে হাজির থাকছে।
এবারের মেলার বিন্যাসে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানের কারণে বাহিরপথে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনসহ মোট চারটি পয়েন্ট দিয়ে মেলায় প্রবেশ ও বের হওয়া যাবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওয়াশরুম, নামাজের স্থান এবং সুবিন্যস্ত খাবারের স্টলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা মেলায় আগত ধর্মপ্রাণ পাঠকদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
বইমেলায় পাঠকদের জন্য আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সব বইয়ে ২৫ শতাংশ কমিশন। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি থেকে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণে প্রায় ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে এবং সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি থাকবে। মেলা প্রাঙ্গণকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখার পাশাপাশি ধূলিবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো ও মশক নিধনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন মেলা বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এবং ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। তবে মনে রাখতে হবে যে, প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর মেলায় নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।



















