কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন রোডম্যাপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সার্কভুক্ত (SAARC) সব রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের (যেমন—সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার শুরুতে এই ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক আমন্ত্রণ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা দেবে।
সার্ক পুনরুজ্জীবন ও মধ্যপ্রাচ্য সংযোগ বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো সেই লক্ষ্যেই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স ও জ্বালানি খাতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদেরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর দূতাবাস ও উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অতিথিদের জন্য বিশেষ প্রটোকল ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
শপথের সম্ভাব্য সূচি ও প্রস্তুতি যদিও সংসদ সচিবালয় থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির একটি প্রস্তুতির কথা আগে শোনা গিয়েছিল, তবে বিএনপির সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলকেই শপথের জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই দিনটিকে সামনে রেখেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাজসজ্জা ও বিদেশি অতিথিদের জন্য বিশেষ ভিআইপি মঞ্চ তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত সরকারের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদাকে কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেবে।

















