হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপে চীন অত্যন্ত খুশি এবং বেইজিং এখন থেকে ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই সিদ্ধান্ত তিনি কেবল চীনের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন যে তেলের দাম শিগগিরই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
আগামী মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে একটি পরিকল্পিত বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা ভেনিজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি এই আলোচনায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। জ্বালানি সক্ষমতার বিষয়ে দাপট দেখিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, চীনের তেলের প্রয়োজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে চীনকে অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি দুই দেশের ব্যবসায়িক ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর আসন্ন বৈঠক নিয়ে বেশ হাস্যরসাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি পোস্টে লিখেছেন যে, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাঁকে উষ্ণ আলিঙ্গন দেবেন এবং তারা দুজনে মিলে দারুণভাবে কাজ করছেন। যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করাকে তিনি শ্রেয় মনে করলেও, একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সতর্ক করেন যে, প্রয়োজনে যেকোনো দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভালো লড়াই করতে সক্ষম। বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত পর্যায়ের যোগাযোগ এবং চীনের সাথে সমঝোতাকে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হিসেবে দেখছেন।



















