বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু করেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ জন সচিবের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ৩ জন সচিবকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। চুক্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং পরিকল্পনা কমিশনের বিতর্কিত সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমানসহ আরও সাতজন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সচিবালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শূন্য হওয়া এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিগত ১৮ বছর ধরে পদোন্নতি ও পদায়নে ‘বঞ্চিত’ এবং ‘যোগ্য’ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি, তাঁদের মধ্য থেকেই নতুন সচিব বেছে নেওয়া হবে। এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম হচ্ছে নবম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হওয়া এই দক্ষ কর্মকর্তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এখন নতুন নিয়োগের তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পেলেই চলতি সপ্তাহেই এই ‘মেজর ওভারহলিং’ বা বড় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। প্রশাসনের এই আমূল পরিবর্তন নিয়ে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল বিরাজ করছে। নতুন সরকার তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি পেশাদার প্রশাসন গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই পদক্ষেপকে তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















